Menu

মাখরাজ কি? মাখরাজের শ্রেণী বিভাগ

মাখরাজ: আরবি ভাষায় বর্ণের উচ্চারণ স্থান

আরবি ভাষায় "মাখরাজ" শব্দটি একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, যা বর্ণের সঠিক উচ্চারণের স্থান বা উৎস নির্দেশ করে। আরবি ভাষার বর্ণমালা এবং তাদের সঠিক উচ্চারণ শেখার জন্য মাখরাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি বর্ণের সঠিক উচ্চারণ তার মাখরাজের উপর নির্ভরশীল। মাখরাজের সঠিক অনুসরণ না করলে, আরবি ভাষার শব্দগুলির উচ্চারণ ভুল হতে পারে এবং এর অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে।

মাখরাজের সংজ্ঞা:

মাখরাজ (مخرج) শব্দটি আরবি ভাষায় "বর্ণের উৎস বা স্থান" বোঝায়। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো একটি বর্ণের সঠিক উচ্চারণ করার জন্য কোন অঙ্গ বা অংশ থেকে সে বর্ণ বের হয় বা উৎপন্ন হয়। সঠিক মাখরাজ জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কুরআন তিলাওয়াত বা আরবি ভাষার বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য।

আরবি বর্ণমালা ২৯টি অক্ষর থেকে গঠিত। এই অক্ষরগুলির প্রতিটির জন্য আলাদা মাখরাজ রয়েছে, এবং সেগুলির সঠিক উচ্চারণে সহায়তা করে।

মাখরাজের শ্রেণিবিভাগ:

মাখরাজ সাধারণত তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়:

  • শ্বাসমুখী মাখরাজ (المخارج الهوائية) - যেখানে বর্ণগুলির উচ্চারণের জন্য শ্বাসপ্রশ্বাসের সাহায্য নেওয়া হয়। যেমন, "হা" (ح), "হাওয়া" (ه), "আ" (ع), ইত্যাদি বর্ণ।
  • জিভমুখী মাখরাজ (المخارج اللسانية) - যেখানে উচ্চারণে জিভের অংশ ব্যবহার করা হয়। যেমন, "ল" (ل), "শিন" (ش), "র" (ر), ইত্যাদি।
  • গ্রহণস্থল বা থ্রোট থেকে উৎপন্ন মাখরাজ (المخارج الحنجرية) - যা গলা বা কন্ঠনালি থেকে উৎপন্ন হয়। যেমন, "আ" (أ), "হা" (ح), "ঊ" (غ), ইত্যাদি।

আরবি ভাষার মাখরাজের ধরন:

আরবি বর্ণমালার বিভিন্ন বর্ণের জন্য বিভিন্ন মাখরাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বর্ণমালার মাখরাজ ১৭টি সাধারণ স্থান এবং অংশে বিভক্ত:

  1. অলগিজ (أ) - আলিফ
    এই বর্ণটির মাখরাজ হলো গলার নিচে। এটি কন্ঠনালি থেকে উচ্চারিত হয়।
  2. ব (ب) - বা
    এই বর্ণটির মাখরাজ হলো ঠোঁটের সংস্পর্শে। শব্দটি উচ্চারণের জন্য দুটি ঠোঁট একত্রিত হয়।
  3. ত (ت) - তা
    এই বর্ণটি জিভের একদিক উপরের দাঁতের সাথে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়।
  4. থ (ث) - থা
    এই বর্ণটি জিভের পেছন দিকে দাঁতের কিনারে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়।
  5. জ (ج) - জীম
    এই বর্ণটি পেছনের আকারে গলার এক অংশ থেকে উচ্চারিত হয়, এবং জিভ এর সাথে অংশগ্রহণ করে।
  6. খ (خ) - খা
    এই বর্ণটি গলার কিছু অংশ থেকে উচ্চারিত হয়, যেখানে হালকা শ্বাসের মাধ্যমে উচ্চারণ করা হয়।
  7. দ (د) - দাল
    এই বর্ণটি দাঁত দিয়ে সোজা শব্দে উচ্চারিত হয়।
  8. ধ (ذ) - ধাল
    এটি দাঁত দিয়ে আরও বেশি গম্ভীর উচ্চারণের মধ্যে নির্দিষ্ট হয়।
  9. র (ر) - রা
    এই বর্ণটি জিভের অগ্রভাগ উচ্চারণের মাধ্যমে তৈরী হয়, একে আরো চটপটে উচ্চারণ করা হয়।
  10. জ (ز) - যিন
    এই বর্ণটি মুখের ভেতরে দাঁতের অংশে স্পর্শ করে উচ্চারণ করা হয়।
  11. স (س) - সিন
    এটি জিভের সামনে দাঁতের ভেতরের অংশে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়।
  12. শ (ش) - শিন
    এই বর্ণটি দাঁত ও জিভের মাঝখানে তৈরি হয়, এবং এটি শ্বাস সহ উচ্চারিত হয়।
  13. সাদ (ص)
    এই বর্ণটি বেশ গম্ভীর এবং দাঁতের স্পর্শের মাধ্যমে উচ্চারিত হয়।
  14. দাদ (ض)
    এটি দাঁত ও জিভের অংশগ্রহণে উচ্চারিত হয়, যেখানে জিভের ওপর বিশেষ চাপ তৈরি হয়।
  15. ত (ط) - তা
    এই বর্ণটি গলার অংশে উচ্চারণ করতে হয় এবং তা অনেকটা আটকে রেখে উচ্চারণ করা হয়।
  16. ঝ (ظ) - যা
    এই বর্ণটি দাঁত এবং জিভের মধ্যে মিশ্রিত উচ্চারণের মাধ্যমে তৈরি হয়।
  17. আ (ع) - আইন
    এই বর্ণটি গলার ভেতর থেকে গর্জনকারি শব্দের মধ্যে থেকে উচ্চারিত হয়।

উপসংহার:

মাখরাজের গুরুত্ব আরবি ভাষায় সঠিক উচ্চারণ ও শব্দের অর্থ পরিষ্কার করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বর্ণের সঠিক মাখরাজ জানা এবং অনুশীলন করা একদিকে যেমন ভাষার শুদ্ধতা নিশ্চিত করে, তেমনি অন্যদিকে কুরআনের সঠিক তিলাওয়াত ও আরবি ভাষার সম্পূর্ণ শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এজন্য প্রতিটি বর্ণের মাখরাজ বুঝে তার উচ্চারণ শিখতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে যাতে কোন একটি বর্ণের সঠিক উচ্চারণে ব্যাঘাত না ঘটে।

0 Response to "মাখরাজ কি? মাখরাজের শ্রেণী বিভাগ "

Post a Comment

post top ads

Post middle ads

Post middle ads 2

Post down ads